Dr. Mayuri Mitra

 


দানাদার  – ড . ময়ূরী মিত্র

বর্ষায় ছুটে  বেড়াচ্ছে রাস্তার  দামাল শিশু | রাস্তাকেই নদী ভেবে বসেছে | দাপাচ্ছে | খেউর করছে জলে আর জল ছিটোচ্ছে চারপাশে | শরীরে ও মনে ভারী ফুর্তি আজ তাদের | এ ফুর্তি ধরিত্রীর |  জীবের ফুর্তি | শুধু আমার  পাশের খাটালের গরুগুলো নিশ্চুপ বৃষ্টি দেখে যাচ্ছে |  মাঝে মাঝে মশার কামড়ে ডাইনে বাঁয়ে মাথা হেলানো ছাড়া আর কোনো হেলদোল নেই তাদের |  মোটকা গোয়ালাটার হাতে বারো মাস  বেশি পরিমাণ দুধ ঢালার ইনজেকশন গিলে গিলে দফারফা হয়ে গেছে  গরুগুলো |   দুচারটে কাতরানি যদি বা অন্যদিন শোনা যায় –আজ দ্যাখো | একদম চুপ ! বিমূঢ় |  বাহির হতে নারাজ মুখটি ফিরায়ে বসে আছে ! চোখ পাতা গোয়ালঘরের দেয়ালে !  ও মোর দুধবতীরা —  এ ভুবনমোহিনী প্রকৃতিতে  এতো গাছাড়া  কেন রে তোরা ? শরীরে কেন আনন্দ ছোটে  না  তোদের !গাছের পাতায় সবুজ জাগে —  তবু তোদের নিরাসক্তি কাটে না ? কী ভাবিস ?  —লাখো জলবিন্দুতেও ফলবে না আর  নতুন কিছু ?. মজবে না দুধভুমি ?  কদাচারী মানুষের ভরসা আর করে না আমার  মাঠচরা গাভী ! বিশুষ্ক তার স্তন ! দুঃখ পাই |
★★★
ঝরে ঝরে নিঃশেষ হচ্ছে বৃষ্টি |  পেয়ারা গাছের পাতা নাচছে  শেষ বৃষ্টির হাওয়ায় | ছেলেবেলায় বৃষ্টি শেষে এমন ঝোড়ো বাতাসে পাতা দুললে  মনে করতাম পাতাগুলোই বুঝি এক একটি পাখি  হয়ে যাচ্ছে  |  ধন্দ গাঢ় হত  নিশীথ বর্ষায় | আঁধারের ঝড় বৃষ্টিতে পাতা দুলত আরো খানিক ভয়াবহতায় !  মনে হত– গাছের ডগায়  এতো জোরে জোরে দোলে যারা তারাই  কি দিনআলোতে দেখা সেই শান্ত  পাতা ?  নাকি আকাশ লেটকে দস্যি পাখির দল? পাখির মতো উড়তে থাকা পাতার নাম দি পাতাপাখি | ছোট পাতা হলে ভাবতাম। আলসের সেই চড়াই কি শালিক ব্যাটা—- বর্ষায় কেমন ডান্স লাগিয়েছে দ্যাখো ! আর পাতা বড় হলে ভাবতাম — আরে এটা তো ঝিলপুকুরের সেই মেছো বকটা –গাছে চড়ল কখন  ! মত্ত হাওয়ায়  বড্ড বাড় বেড়েছে দেখি এদের !  আমার কল্পনার সে  পাতাপাখি যত ঝাপটা মারত,হাওয়ায় নেচেকুঁদে যত একসা হত, ইচ্ছে করত –দুমদাম চড়ে বসি ওগুলোর মাথায় |  আমায় পিঠে নিয়ে সে পাখি চলুক বহুদুর | ধরায় রইল  নাহয় ঘর বান্ধব  ! আজো বাদলসাঁঝে একি  ভীষণ বিষম ইচ্ছে আমার ! মরণ ! সুখ পাই।
থাক তোরা |
সোনা আর মনা |
আমার রক্তধারায়  মেল |

Post a Comment

0 Comments